Online Magazine

We are excited to announce our very first Online Magazine: Mon-Montreal. We would like to thank everyone who submitted content - it is you who has made this possible. We would also like to express our gratitude to the Editorial Team who has pitched in their precious time to make this a succesful venture. Let us all mark this moment as IBAM rose to the challenges posed by the pandemic.

Peoples' opinion

Susil Das

Mon-মন্ত্রিয়াল নিয়ে কয়েকটা কথা

অবশেষে আমাদের E-magazine হাতে এল। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার দ্বিতীয় দিনে এক ঝলকে দেখেছিলাম। এবারে পুরোটা দেখা হল। বিশ্বাস হচ্ছে না যে এটা আমাদের মতো ছোট community-র এত সুন্দর মুখপাত্র হতে পারে। এর আঙ্গিক, সম্পাদনা, চিত্রাঙ্কন এবং বিষয়বস্তুর শ্রেণীবিন্যাস অনন্য উৎকর্ষতার পরিচায়ক । এটা যে আমাদের IBAM-এর মতো ছোট সংস্থার মুখপাত্র – তা ভেবে গর্বিত বোধ করছি ।

Bill 101-এর দাক্ষিণ্যে মন্ট্রিয়ালের স্থায়ী বাসিন্দা এক ক্ষয়িষ্ণু ও অপস্রিয়মাণ গোষ্ঠী । তাঁদের নতুন প্রজন্ম প্রায় সবাই চলে গেছে অন্যত্র । বয়স্ক যাঁরা এখনো টিকে আছেন তাঁদের বেশির ভাগই প্রৌঢ়ত্ব/বার্ধক্য নিয়ে বিগত দিনের সালতামামি করছেন । এ অবস্থায় প্রতি বছর নতুন দিশার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে আসেন নব-প্রজন্ম - প্রধানতঃ India থেকে । তাঁরাই আমাদের সম্পদ । ওঁরা আসেন রবীন্দ্রনাথের ‘স্তব্ধ চাঁপার তরু’-র নবীন পাতার মতো - কিছু ছাত্রছাত্রী এবং IT-র নব্য কর্মী হিসেবে। এঁরা চলমান - কবিশেখর কালিদাস রায়ের ‘ছাত্রদল’-এর মতো।কখনো তাদের সংখ্যা কম এবং ইচ্ছে থাকলেও স্বল্প পরিসর জীবনের ব্যস্ততায় IBAM-এর কাজে মন দিতে পারেন না । এবারে আমরা ভাগ্যবান। IBAM-এ এসেছেন এক দল প্রতিভাময়/ময়ী নব্য তরুণ-তরুণী। তাঁদের উৎসাহ উদ্দীপনা এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিত ভাবে কাজ করা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মনে হয় তার রেশ আমাকেও উদ্বোধিত করেছে। তাই এই পত্রালাপ।

আমরা IBAM থেকে একটা E-magazine ‘খোয়াই‘ বার করেছিলাম বছর পাঁচেক আগে। প্রথম সংখ্যার পরে আমাদের শত চেষ্টা সত্তেও ওটা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ critical mass-এর অভাব । বড়ই মুষড়ে পড়েছিলাম। তাই শৌভিক যখন নতুন E-magazine-এর জন্য যোগাযোগ করলো – তখন ওকে নিরাশ করেছিলাম । নাছোড়বান্দা শৌভিক আবার Zoom Video call করে। তখন সৈকত জানায় যে ওঁরা ইতিমধ্যে মন্ট্রিয়ালের বাইরেও লেখার জন্যে যোগাযোগ করছেন – যেমন মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে। কিংবদন্তী সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর স্নেহধন্য লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর নাম শুনে মনে ভীষণ দাগ কাটল। বুঝলাম এঁরা সত্যিই সাহিত্যানুরাগী এবং আমাদের মতো শুধু মন্ট্রিয়ালবাসীকে নিয়ে নয় – বাইরের সাহিত্য প্রেমিকদেরও নিয়ে একটা নতুন প্রকাশনার ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান । মনের একটা নবদিগন্ত খুলে গেল। বুঝলাম এঁরা এই প্রচেষ্টা সফল করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ । আজকের এই পত্রিকা সেই প্রচেষ্টার সফল রূপ। এ জন্য তোমাদের অসংখ্য অভিনন্দন। তোমাদের জন্য আমি যারপারনাই গর্বিত।

লেখকের তালিকায় আমার নাম থাকায় পত্রিকার লেখা পর্যালোচনা করা সমীচীন হবে না। আর তা সময় সাপেক্ষও বটে। তাই কথা বলব এর আঙ্গিক, সম্পাদনা ও বিষয়বস্তু নিয়ে। প্রথমেই পত্রিকার নাম – Mon মন্ত্রিয়াল। নামের মাধ্যমে আমাদের শহরের বৈচিত্র্য সুন্দর ভাবে প্রতিভাত। প্রচ্ছদপটে ঈশিতার নিপুন হাতের ছোঁয়া । এর আগে IBAM-এর সুন্দর logo করে চমকে দিয়েছিল। এবারেও তাই।

আঙ্গিক ও চিত্রকলা

সর্বাঙ্গ সুন্দর। একটা professional magazine-এর চাইতে কোন অংশে কম নয় । চুপি চুপি বলে রাখি - প্যারিসের Louvre Museum-এ ভিড় ঠেলে মোনালিসা-র ছবি ৪-বার দেখেও ওর হাসির মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারিনি । সুতরাং চিত্রকলা নিয়ে কথা বলা বিপজ্জনক জেনেও বলব পত্রিকায় চিত্রকলা একটা যাদুর চমক দিয়েছে । প্রতিটি লেখায় তা একটা নতুন dimension/ দিগন্ত এনে দিয়েছে । চিত্রকরদের অসংখ্য ধন্যবাদ ।

বিষয়বস্তু ও শ্রেণীবিন্যাস

অপূর্ব মুন্সিয়ানার পরিচায়ক । প্রতিটি বিষয়বস্তুর শিরোনামে রয়েছে কল্পনা-নৈপুণ্যের ছাপ । অসাধারণ। (শুধু হেড অফিসের বড়ো বাবুর গোঁফের মতো ‘ধানসিঁড়ির চন্দ্রবিন্দু টা চুরি গেছে । সিন্ধুতে বিন্দু -যৎসামান্য typo.)

সম্পাদনা

তুলনাহীন । সম্পাদক গোষ্ঠীর সার্বিক ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমের অনিন্দ্য রূপ । সম্পাদনা হল প্রকাশনার কেন্দ্রবিন্দু। সঠিক শব্দচয়ন, কবিতার ছন্দ, ভাব প্রকাশের সাবলীলতা এবং সর্বোপরি বানান পরিমার্জনা – এ সব শ্রম এবং সময় সাপেক্ষ্য । কঠিন এ কাজ সম্পাদক মন্ডলী সার্থকতার সঙ্গেই সম্পন্ন করেছেন । এ জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

এত সুন্দর পত্রিকাটি আক্ষরিক অর্থেই অনিন্দ্য । মনে হয় সুকুমার রায়ের ‘খুত-ধরা-বুড়ো’ রাম-ধনুকের রঙে খুঁত পেলেও এ পত্রিকাতে খুঁত পেতে গলদঘর্ম হবেন ।

পত্রিকার জন্য যারা নীরলস পরিশ্রম করে এই অসাধ্য- সাধন করেছেন – সেই গুণীজনদের সশরীরে দেখতে পেলে খুশী হতাম ।তবে virtual world-এর পরিচয়ই বা কম কিসে । ব্যক্তিগত ভাবে তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না। No-tree –no stone - বয়সের গাছ-পাথর না থাকায় স্মৃতি শক্তির আধিক্যে একটু টান পড়েছে । তাই ভার্চুয়াল বা সাক্ষাৎ পরিচয়ের পরেও সবাইকে নির্দ্বিধায় ‘ আরে তোমার নাম যেন কি ‘ বলে সম্বোধন করার সর্বস্বত্ব সংরক্ষণের অধিকার রইল আমার। আমাকে চেনা অতীব সহজ । শিরোদেশে কেশরাশীর প্রাচুর্যের সামান্য অভাব – নিন্দুকেরা বলে টাক । আমি হাসি। গুরুদেব প্রেসিডেন্ট Trump-এর ভাষায় এটা হল Fake News । ভাল থেকো সবাই ।

-Not-so-young (but not বুড়ো ) সুশীল মেসো ।